।। নিউজ ডেস্ক ।।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশনের সাতটি কমিশন ইতোমধ্যে সুপারিশ জমা দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাঁচটি কমিশনের সুপারিশেই লিখিত মতামত জানিয়েছে। মতামতে ২২ সুপারিশে ভিন্নমতের বিস্তারিত তুলে ধরেছে নবগঠিত দলটি।
রবিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে দেওয়া লিখিত মতামতে এনসিপি জানিয়েছে , তারা মতামতে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের সুপারিশে একমত। তবে নির্বাচনের আগেই উচ্চকক্ষের প্রার্থী কারা, তা দলগুলোকে ঘোষণা করতে হবে। কারণ, ভোটারের জানার অধিকার আছে উচ্চকক্ষে কারা যাচ্ছেন।
দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংস্কার সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক সারোয়ার তুষার এ অবস্থান জানিয়েছেন। এ সময় সংস্কার সমন্বয় কমিটির সদস্য মুনিরা শারমিন, জাবেদ রাশিম, আরমান হোসাইন ও সালেউদ্দিন সিফাত উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপি মতামতে জানিয়েছে, যেসব সুপারিশ সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, সেগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন। তবে, তা বাধ্যতামূলক না করার প্রস্তাব দিয়েছে এনসিপি।
এনসিপি মতামতে জানায়, নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ হতে পারে ৭০ থেকে ৭৫ দিন। যে পরিস্থিতিই হোক না কেন, নির্বাচনকালীন সময়ে জরুরি অবস্থা জারি করা যাবে না বলেও প্রস্তাব করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে প্রস্তাবিত সাংবিধানিক কাউন্সিলের (এনসিসি) দায়িত্ব সরকার নেবে। আর সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কারে গণপরিষদ নির্বাচন প্রয়োজন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দেওয়া সুপারিশের ৭০টি সংবিধান-সংক্রান্ত, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার-সংক্রান্ত ২৭টি, বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন-সংক্রান্ত ২৬টি ও দুর্নীতি দমন কমিশন-সংক্রান্ত ২০টি। এই ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে ১১৩টিতে পুরোপুরি একমত পোষণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এছাড়াও তারা ২৯টি প্রস্তাবে আংশিক একমত এবং ২২টি প্রস্তাবে একমত নয়।