কী এক বিপদ বলুন তো! বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরা সবচেয়ে ভালো যেটা খেলেন, সেটি নিয়েও এখন যড়যন্ত্র। বিষয়টি যে চার-ছক্কা নয়, সেটা তো বুঝেছেনই। মনে মনে এটাও বলতে পারেন, এত ভেঙে বলার দরকার নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরাই গালি দিই। ডটটাই যে এ দেশের ব্যাটসম্যানদের প্রিয়, সেটি বুঝতে আপনার মতো ক্রীড়া সাংবাদিক হওয়ার দরকার নেই। ডটবাবা, ডটের রাজা….ওগুলোও আমাদের দেওয়া নাম। আগে বলুন ষড়যন্ত্রটা কিসের!
বড় ষড়যন্ত্র রে ভাই! ডট খেললে নাকি মাঠ থেকেই তুলে নেওয়া হবে। টানা ৬টি বল ডট খেললে আম্পায়ার বলবেন, যাও বাবা অনেক খেলেছ! এবার আরেকজনকে পাঠাও। বুঝতে পারছি, এমন কাণ্ড ঘটিয়ে দেশের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের প্যাভিলিয়নে ফিরে যাওয়ার দৃশ্য আপনার চোখে ভেসে উঠছে। ভয় পাবেন না।
সুখবর হচ্ছে আপাতত এই আলোচনা চলছে অস্ট্রেলিয়ার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশে। নিয়মটি এখনো চালু হয়নি। আলোচনার পর্যায়ে আছে। তবে চালু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, টুর্নামেন্টকে আকর্ষণীয় করতে বদ্ধপরিকর বিগ ব্যাশ কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন হলো, নিয়মকে কেন এ দেশের টুর্নামেন্টে আসতে হবে?
বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও তো বিগব্যাশে খেলতে যেতে পারেন। একটু কল্পনা করুন তো এই নিয়ম চালুর পর বিগ ব্যাশে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরা খেলছেন। হাসির কিছু নেই। প্রতিভায় তো আর তাঁরা পিছিয়ে নেই। শুধু চার-ছক্কা মারতে পারেন কম, ডট একটু বেশি খেলেন।
ধরে নিন, তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে ওপেন করছেন। এমনিতে তো তাঁরা আউট হতেই পারেন। কিন্তু দুজনের ডট খেলে আউট হওয়ার সম্ভাবনা কতটা? ঝুঁকিটা কি পাওয়ার প্লেতেই বেশি? ৩০ গজের বাইরে থাকবেন মাত্র ২ জন ফিল্ডার। তখন তো তুলে মারা সহজ হলেও সিঙ্গেল বের করা কঠিন হবে।
কারণ, বেশির ভাগ ফিল্ডার ৩০ গজের ভেতরেই থাকবেন। অনেক সময় দারুণ টাইমিংয়ের পরও বল যাবে ফিল্ডারদের হাতে। এই শৃঙ্খল থেকে বের হতে রাগে–ক্ষোভে হয়তো ওভার বাউন্ডারি মারার চেষ্টা করতে যাবেন তাঁরা। সাবধান! বিগ ব্যাশের সীমানা কিন্তু বেশ বড়। ঠিক বিপিএলের মতো নয়।
আরেকটি কথা। নাম দুটো কল্পনাপ্রসূত হয়ে বসিয়ে দেওয়া হয়নি। একটু পরিসংখ্যানেরও সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। বিপিএলের সর্বশেষ মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৬৩টি ডট বল খেলেছেন তামিম। আগের মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৯৫টি খেলেছেন নাজমুল। এর আগে তামিম তো ২০১৯–২০ ও ২০১৬–১৭ সালেও সর্বোচ্চ ডট খেলেছেন। ডটের সঙ্গে সম্পর্কটা তাদের ভালোই বলা চলে।