জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যবহার না করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ছাত্র ফেডারেশন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কর্তব্য ছিল জুলাই গণহত্যার বিচারের উদ্যোগ নেওয়া, শহীদদের পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের ২৩তম জন্মবার্ষিকীতে সব শহীদের স্মরণে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তাঁরা এসব কথা বলেন৷
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি পালনকালে ৪ আগস্ট মিরপুরে যুবলীগের গুলিতে আহত হন শাকিল। পরে ঢাকার আগারগাঁওয়ে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
কর্মসূচিতে ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ বলেন, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গণহত্যার সঙ্গে জড়িত যাঁরা দেশে ছিলেন, তাঁদের গ্রেপ্তারে সরকারের গাফিলতি গণহত্যার বিচারে সরকার আন্তরিক নয়, সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে যেমন গণতান্ত্রিক সংস্কার দরকার, ঠিক তেমনি সব শিশুর জন্য শিক্ষা, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে। গণ-অভ্যুত্থানকে গোষ্ঠীস্বার্থে ব্যবহার না করে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিতে হবে, কারও গোষ্ঠীস্বার্থ উদ্ধারে হাজারো মানুষ জীবন দেয়নি।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আহ্বায়ক উৎসব মোসাদ্দেক বলেন, বর্তমান সরকারের প্রাথমিক কর্তব্য গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়ন এবং আহত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
ঢাকা মহানগর ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি আল-আমীন রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুসরাত হকের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন ছাত্র ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক অনুপম রায় ও কেন্দ্রীয় সদস্য জিনাত আরা।