ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দাবানলের ভয়াবহতা দেখে আঁতকে উঠবেন যে কেউ। হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন প্রকৃতির রুদ্রমূর্তিতে। দাবানলের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে আলতাদেনা টাউন কাউন্সিলের সদস্য নিক আর্নজেন বলেন, ঘর হারিয়ে তাদের চোখে-মুখে এখন শুধু শূন্যতা। সবাই যেন জীবন্ত জোম্বি হয়ে ঘুরছে।
আর্নজেনের নিজের বাড়ি ইটন দাবানলে পুড়ে গেছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় অন্তত কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং তাদের অর্ধেকেরও বেশি হয়তো আর ফিরে যেতে পারবেন না। এটি এতটাই ভয়াবহ যে এর প্রভাব কল্পনাও করা কঠিন।
সিএনএন বলছে দাবানলটি লস অ্যাঞ্জেলেসের ৬০ বর্গমাইল এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
আগুনের সঙ্গে বসবাস:
ক্লাইমেট সেন্ট্রালের গবেষক ক্যাটলিন ট্রুডো বলেন, আগুন ক্যালিফোর্নিয়ার জীবনের অংশ। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন আগুনের আচরণ পরিবর্তন করে দিচ্ছে। উচ্চ তাপমাত্রা ও শুষ্কতা দাবানলকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলছে।
চলতি বছরে প্রচণ্ড শুষ্কতা দাবানলকে আরও ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ‘ওয়েদার হুইপল্যাশ’ বা দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়া নামে চিহ্নিত করেছেন। যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে দিন দিন বাড়ছে।
কেবল ঘরবাড়ি নয়, দাবানলে ধ্বংস হয়েছে স্কুল, কর্মস্থল, দোকানপাট, এমনকি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও।
কোথায় যাবেন এই বাস্তুচ্যুত মানুষ?:
দাবানলে বাস্তুচ্যুত মানুষরা শুরুতে স্থানীয় বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের কাছে আশ্রয় নেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে তারা কোথায় থাকবেন, তা নির্ভর করছে নানা জটিল বিষয়ের ওপর।
অধিকাংশ বাস্তুচ্যুত মানুষ নিজেদের পুরোনো এলাকায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, কারণ সেখানেই তাদের পরিবার ও জীবিকা। তবে ভাড়াটিয়াদের জন্য এটি প্রায় অসম্ভব। কারণ দাবানল এরইমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার সংকটময় আবাসন বাজারকে আরও চাপে ফেলেছে।
বাড়ির মালিকদের জন্যও পরিস্থিতি সহজ নয়। বীমার অর্থ পাওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং ক্ষতিপূরণ প্রায়ই প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়। এরমধ্যে বাড়ি পুনর্নির্মাণ করতে অনেকেই সক্ষম নাও হতে পারেন।
এছাড়া দাবানলের কারণে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদানের দূষণ দেখা দিয়েছে, যা পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে জলবায়ুর ঝুঁকি একেবারে নেই।